ফ্রান্সে এবারও জমজমাট ঈদ উৎসবের প্রস্তুতি
প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায় এবারও ব্যাপক উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ২০২৬ সালে সম্ভাব্য ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত ও আনন্দমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
প্যারিসে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী শহর প্যারিসের কাছাকাছি স্তা’য় অবস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পাঁচটি ঈদ জামাতের প্রস্তুতি নিয়েছে স্তাঁ'য় অবস্থিত এই ইসলামিক সেন্টার। সকাল সাড়ে সাতটায় প্রথম জামাত শুরু হবে। প্রতি পঁয়তাল্লিশ মিনিট অন্তরে একেকটি জামাত রেখে সকাল সাড়ে দশটায় শেষ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদ আয়োজনে মহিলাদের নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “প্রবাসের মাটিতে পবিত্র ঈদের জামাত আয়োজন আমাদের জন্য এক গভীর আবেগ ও ঐক্যের প্রতীক। ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিবেশের মাঝেও আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ একত্রিত হয়েছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ঈদ জামাত শুধু ইবাদতের নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”
এছাড়া লা কুরনেভ এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্যোগে খোলা মাঠ বা ভাড়া করা হলরুমে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও মসজিদ কমিটি যৌথভাবে এই আয়োজন পরিচালনা করে। একইভাবে সাঁ-দেনি এলাকাতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে ছোট পরিসরে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বৃহত্তর মুসলিম সমাজের জন্য প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী গ্রঁদ মসকে দ্য প্যারিসে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সাধারণত সকাল ৮:০০ ও ৮:৪৫-এ দুই দফা জামাত হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মেট্রো হোশ , সার্খসেল ইন্ডোর স্টেডিয়ামসহ ফ্রান্সের ছোট-বড় শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
ওভারভিলিয়ে বাংলাদেশী জামে মসজিদ বরাবরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ৭:১৫ মিনিটে শুরু হবে ঈদের প্রথম জামাত।
এই প্রসঙ্গে মসজিদের খাদেম সালেহ আহমদ বলেন, “ঈদের জামাত আয়োজন আমাদের কমিউনিটির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রবাসের জীবনেও আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছি এবং মুসলিম ভাই-বোনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সক্ষম হচ্ছি।”
ঈদের নামাজ শেষে শুরু হবে আনন্দ-উৎসব। বিসিএফ-এর উদ্যোগে পার্ক দ্য লা ভিলেত-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া “ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস ২০২৬” হবে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এখানে থাকবে খাবারের স্টল, পোশাকের দোকান, শিশুদের বিনোদন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পরিবারসহ উপভোগ করার মতো পরিবেশ তৈরি করবে। একই দিনে প্লাস দ্য ফেত প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ আনন্দ মেলা।
এছাড়া বাস্তিল চত্বরে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ঈদ বাজার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অপরদিকে ওবেরভিলিয়ে এলাকার বিভিন্ন কমিউনিটিতেও বাংলাদেশিরা নিজস্ব মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাবারের আয়োজন করে থাকে।
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে “ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস ২০২৬”, যা ২০ মার্চ বিকেল থেকে শুরু হবে। পাশাপাশি ২২ মার্চ ল্য ফেনিক্স-এ অনুষ্ঠিত হবে “ফেত ঈদ ২০২৬”, যেখানে লাইভ সংগীত, হেনা, খাবার এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে বাংলাদেশিরা আলাদা করে জামাত ও উৎসবের আয়োজন করে থাকেন। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে, প্যারিসে বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা প্রবাস জীবনে দেশের আবহ অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ।
কমেন্ট বক্স