ইস্টার উৎসব- পুনরুত্থান ও মুক্তির গল্প
// মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন//
খ্রিস্টান ধর্মে পাক বা ইস্টার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মূল তাৎপর্য হলো ঝেজু ক্রিস্ত বা যিশু খ্রিস্ট এর পুনরুত্থান, যা মানবজাতির জন্য আশা, ভালোবাসা এবং মুক্তির বার্তা বহন করে। খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তিন দিন পর পুনরুত্থিত হন। এই ঘটনাটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি প্রমাণ করে যে মৃত্যু জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন জীবনের সূচনা।
ইস্টার উৎসব মানুষের জীবনে নতুন আশা ও প্রেরণা জাগিয়ে তোলে। এটি পাপ থেকে মুক্তি এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই উৎসব আমাদের শেখায় যে জীবনে যতই দুঃখ-কষ্ট আসুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের জয় হবেই।
ইস্টারের আগে ৪০ দিনের যে সময়টি থাকে, তাকে কারেম বা খ্রিস্টধর্মে লেন্ট বলা হয়। এই সময়ে খ্রিস্টানরা উপবাস, প্রার্থনা এবং আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করেন। এর পরেই আসে সেমেন স্যান্ত বা পবিত্র সপ্তাহ, যেখানে যিশু খ্রিস্টের জীবনের শেষ দিনগুলোর ঘটনা স্মরণ করা হয়, যেমন তাঁর কষ্টভোগ ও ক্রুশবিদ্ধ হওয়া।
ইস্টারের দিনটি আনন্দ, ভালোবাসা এবং উদযাপনের দিন। এই দিনে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয় এবং সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বাড়ায় এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
সর্বোপরি, ইস্টার শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সার্বজনীন বার্তা বহন করে—আশা, পুনর্জন্ম এবং নতুন জীবনের। এই উৎসব আমাদের শেখায় যে অন্ধকারের পরেই আলো আসে এবং জীবনে সবসময় নতুন শুরুর সম্ভাবনা থাকে।
এই দিনে ফ্রান্সে জুর ফেরিয়ে বা রাষ্ট্রীয় ছুটি পালিত হয়।
কমেন্ট বক্স