স্বাধীন দেশের সিদ্ধান্ত হবে স্বাধীন, ডানে-বামে তাকাতে হবে কেন- জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ‘মাই কান্ট্রি ফাস্ট, বাংলাদেশ ফাস্ট’ স্লোগান দিলেও বাস্তবে এটির চর্চা হয় না। এখনো দেশের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ডানে-বামে তাকিয়ে নেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘দেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ‘এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ’।
জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানির একটা অংশ আমরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করি। পেট্রল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করি। আমরা ব্লু ইকোনমির কথা শুনি। কিন্তু ব্লু ইকনমিতে আমাদের কয়েকটা জাহাজ চলে আর কয়েকটা মাছ তুলে আনি। এর বাইরে কিছু নেই। আল্লাহ অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন। মিনারেল রিসোর্সেস। আমরা সেগুলা তুলে আনতে পারছি না।
তিনি বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতাটা দুইটা জায়গায়। একটা হলো স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানসিকতা। যেটা থাকা দরকার নাগরিক এবং দেশ পরিচালনায় যারা আছেন তাদের। এটার কারণে আমরা বড় কিছু করার আগে ডানে-বামে দশবার দেখে তারপরে পদক্ষেপ নিতে হয়। এটা একটা স্বাধীন দেশ, স্বাধীন দেশের সিদ্ধান্ত হবে স্বাধীনভাবে। আমার ডানে-বামে তাকাতে হবে কেন? সবাই আমরা স্লোগান দেই ‘মাই কান্ট্রি ফাস্ট, বাংলাদেশ ফাস্ট’ এ স্লোগানের বাস্তবতা তো দেখাতে হবে। মুখের স্লোগান তো শুনতেছি ৫৪ বছর ধরে এখন বাস্তবে আনতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানির সংকট নেই তবে তেল পাম্পগুলো সবসময় দীর্ঘ লাইন থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানিতে এখন হাহাকার। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই। সংসদে যখন মন্ত্রী কোনো বিবৃতি দেন অথবা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ কথা বলে তখন মনে হয় যে তেলের ওপর বাংলাদেশ ভাসছে। শুধু কিছু অসৎ মানুষের কারণে আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি। এবং এটাও বলা হয় আগের থেকে তেলের যে স্বাভাবিক চাহিদা ছিল ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ বাধার পরে এখন সে চাহিদা অনেকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সারারাত জেগে থেকে মানুষ পাম্প থেকে তেল নিচ্ছে। অনেকসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যান।
রাজনৈতিক সিন্ডিকেশনের কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদ্যোগ সফল হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো লিকুইড এবং গ্যাসনির্ভর জ্বালানি থেকে বের হয়ে আসছে। এতে তারা পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচতেছে। আরেকদিকে পরনির্ভরশীলতার জিঞ্জির তারা ছিন্ন করে ফেলছে। আমাদের দেশে হচ্ছে না। কেন হবে না? এখানেও ঘুরে-ফিরে সিন্ডিকেশন, পলিটিক্যাল সিন্ডিকেশন। আমাদের দেশে যতগুলো বড় সিন্ডিকেশন হয় সবগুলোর পেছনে রোলিং পার্টির হাত থাকে। অতীতেও ছিল, এখনো আছে, তার কোন পরিবর্তন হয়নি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে সরকার এসে সংসদীয় গণতন্ত্র শুরু করেছে। এর মূলমন্ত্র হচ্ছে দেশের সব মৌলিক কৌশলপত্র এখান থেকে তৈরি হবে। গুড গভর্নেন্সের জন্য ‘বেটার ল’ এখানে তৈরি হবে। ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড গ্রে ল’ যেগুলা আছে সেগুলো এখান থেকে হোয়াইটওয়াশ হবে। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? জাস্ট গতকালকের ইভেন্টসগুলো যদি দেখেন, বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। দুর্ভাগ্য! আমরা বলেছিলাম এখানে রাজনীতির সুস্থ প্রাকটিস হোক। সেখানে প্রত্যেকটি মিনিটের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। সুতরাং জনগণের ট্যাক্সের টাকা জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে সামান্য একটা কিছু করে এখানে নষ্ট করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। অতীতে হয়নি এটা কোন উদাহরণ হতে পারে না। এখন হবে এটাই হবে উদাহরণ।
এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব ই এলাহীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. গোলাম আরিফসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন।
কমেন্ট বক্স