১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জনআকাঙ্খার নির্বাচনকে সুষ্ঠু হতে দেওয়া হয়নি- জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৭-০৪-২০২৬
জনআকাঙ্খার নির্বাচনকে সুষ্ঠু হতে দেওয়া হয়নি- জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের মধ্যে দিয়ে জাতির মধ্যে যে আকাঙ্খার তৈরী হয়েছিল সে আকাঙ্খা বাস্তবায়ন এই নির্বাচনের মাধ্যমে হয়নি। কেন হয়নি তা পরিস্কার। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু হতে দেওয়া হয়নি। এখানে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তার স্বীকৃতি এসেছে। তিনি প্রথম রাজসাক্ষি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রফেসর ড. ইউনূস যুক্তরাজ্য সফর করেছিলেন, সফরে যাওয়ার একদিন আগে জাতির সামনে ভাষণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন হবে এপ্রিল মাসের প্রথমার্থে। তিনি সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে বসলেন, তিনি দেশে না এসে তার পক্ষ থেকে সেখানে একটা জয়েন্ট প্রেস কনফারেন্স করা হলো। তিনি চারদিন আগে যে ঘোষণা দিয়ে গেলেন, এটিকে বদলে তিনি বললেন, এই নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেও হতে পারে। আমরা তখনই প্রতিবাদ করেছিলাম। বিদেশের মাটিতে বসে কেন দেশের নির্বাচনের সময় ঘোষণা করতে হবে। এটাকে আমরা একটা অসুস্থ প্রাকটিস বলেছিলাম। বলেছিলাম তিনি একটা ভুল বার্তা জাতিকে দিয়ে এসেছেন।
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এখন শুধু অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাই নয়, বরং সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন, যে আন্দোলন করেছেন ছাত্র যুব সমাজ। আমরাও ছিলাম। তবে প্রফেসর ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপটেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি ওখানেই তুলে দেওয়া হয়, তাহলে আর নির্বাচন থাকলো কোথায়। এটি দ্বিতীয় রাজসাক্ষি। এরমাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে গেলো, নির্বাচনে যোগসাজসের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম করে জনগণের প্রত্যাশার কবর রচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একই দিনে দুটি পৃথক ব্যালটে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি ছিল জাতীয় সংসদ সদস্য, আর একটি ছিল গণভোটে ‘হ্যা’ কিংবা ‘না’। এখানে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন ছিল। ৬৮ভাগের ওপরে জনগণ ‘হ্যা’ পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ইনট্রিম সরকারের উপদেষ্টা বলেছেন, তাদেরকে মেইন স্ট্রিম হতে দেইনি। তাদের ১৬৮টা পাওয়ার কথা ছিল। আমরা তা দেইনি। তাদের একশটা কেটে ৬৮তে বেধে দিয়েছি। আপনি দেওয়ার না দেওয়ার কে? আপনাকে কে ক্ষমতা দিয়েছে। এটা চরম লজ্জাজনক। কিন্তু সবতো চাপা থাকে না, বের হয়ে আসে। এরপরে তিনি বললেন, আমি বর্তমান বিরোধীদলকে মিন করিনি। তাহলে বর্তমান বিরোধীদলের বাইরে ৬৮টা আসন কে পেলো। আসলে হাজার বার চেষ্টা করলেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। সত্যকে মিথ্যার প্রলেপনে অন্ধকারে ফেলে রাখা যায় না। সত্যের আলো বের হয়ে আসে। এটিই বের হয়ে এসেছে। ইতিহাস হয়তো একদিন এই নির্বাচনের পোস্ট মর্টেম করবে। সেদিন আরও অনেক জিনিস বের হয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ঐক্য বাংলাদেশের দেশ পরিচালনার দায়িত্বে গেলো কি গেলো না, এটা আমাদের আপসোসের জায়গা নয়। আমাদের বড় আফসোসের জায়গা, জনগণের আকাঙ্খার যে মৃত্যু হলো, ওই জায়গায়। দেশে একটা অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাইনি। এই ইলেকশনই শেষ ইলেকশন নয়। এই মার্কা ইলেকশন ২০০৮ সালেও হয়েছিল। ২০০৮ সালে বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে যারা ক্ষমতার মসনদে আরোহন করেছিলেন, তারা তাদের পরিণতি বহন করে বিদায় নিয়েছে। এখনও যদি, যদির কোনো অবকাশ নেই, ইতোমধ্যে প্রমাণিত। তাহলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয়। মূল জাস্টিস আল্লাহর হাতে। আল্লাহর বিচার কখনো পক্ষপাতিত্বমূলক হয় না।

সারাদেশের জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমিরসহ সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েব আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা এটিম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিম প্রমুখ। 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ