‘জনগণ রাজপথে নামলে রক্ষা পাওয়া যাবে না’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, সংসদে আপনাদের চেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু জনগণের বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। জনগণ যদি রাজপথে নামে তবে রক্ষা পাওয়া যাবে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহার বলেন, ‘দলীয় পেটুয়াবাহিনী দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন জনসমর্থন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বিএনপি মানতে রাজি হয়নি, পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। জুলাই সনদও বিএনপি মানতে চাচ্ছে না, তবে আন্দোলনের মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য হবে।’
সরকার মব সৃষ্টিতে উসকানি ও সমর্থন দিচ্ছে উল্লেখ করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার যেই সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, সেই সংবিধানে কি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই? যদি থাকে তবে কেন জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসায় মব সৃষ্টি করা হয়েছে?’
কোন সংবিধানের ক্ষমতাবলে সরকার গঠন করেছেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের কিছু অংশ মানবেন কিছু অংশ মানবেন না- তা হতে দেওয়া হবে না। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে। সুতরাং, পুরাতন ব্যবস্থায় আর দেশ চলতে পারে না।’ নতুন ব্যবস্থার জন্য দ্রুত গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে অধিবেশন ডাকতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গণমিছিলপূর্ব এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ,খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, জাতীয় গণতন্ত্রি পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ।
পরে একটি গণমিছিল বিজয়নগর-কাকরাইল- নাইটেঙ্গেল মোড় হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে কয়েক-হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স