১৯ মার্চ ২০২৬ , ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

মানবতার ভাষায় রাজনীতি

তারেক রহমানের বক্তব্যে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৫
তারেক রহমানের বক্তব্যে  নতুন দিগন্তের  ইঙ্গিত




আহমেদ সোহেল (বাপ্পী), প্যারিস  


বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি; তিনি রাজনীতিকে মানবতার পরিসরে নিয়ে গেছেন—যেখানে আত্মসমালোচনা, ন্যায়বোধ ও সহমর্মিতা একসাথে কাজ করেছে।
 
বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জনাব তারেক রহমানের কথাবার্তা ছিল পরিমিত, স্পষ্ট এবং গভীর মানবিক বোধে ভরপুর। রাজনীতির সাধারণ ভাষা যেখানে প্রায়ই আক্রমণাত্মক বা আত্মপক্ষসমর্থনের হয়, সেখানে তিনি বেছে নিয়েছেন যুক্তি, সংলাপ ও ন্যায়ের ভাষা।
 
তিনি স্বীকার করেছেন, রাজনীতিতে ভুল হয়েছে—নিজ দলের ভেতরেও। তাঁর বক্তব্যে আত্মসমালোচনার স্পষ্ট সুর ছিল। তিনি বলেছেন, বিএনপি বা যে কোনো দলের কেউ অপরাধ করলে, তার বিচার হওয়া উচিত। এই বাক্যটি তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রমাণ, কারণ খুব কম রাজনীতিকই নিজের দলের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে পারেন।
 
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তিনি আওয়ামী লীগের অপরাধ ও অন্যায়ের বিচার সম্পর্কেও পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেছেন, কোনো দলই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার—সবকিছুরই বিচার হওয়া উচিত, তবে তা যেন প্রতিশোধ নয়, বরং আইনের ন্যায্য প্রয়োগের মাধ্যমে হয়। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানই সাক্ষাৎকারটির রাজনৈতিক ও নৈতিক মূল্য বহুগুণে বাড়িয়েছে।
 
তিনি জোর দিয়েছেন সহিংসতা পরিহার ও সংলাপের রাজনীতির ওপর। বলেছেন, ভিন্নমতকে শত্রু নয়, মতবিনিময়ের সুযোগ হিসেবে দেখা দরকার।
বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই বার্তা মানবতার আহ্বান বলেই মনে হয়।
 
সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথাও এনেছেন। কৃষক, শ্রমজীবী, তরুণ ও প্রবাসীদের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রমাণ করে—রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল ক্ষমতার খেলা নয়; এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত এক দায়বোধ।
 
তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকারের মূল সুর হলো ভারসাম্য।
নিজ দলের ভুল স্বীকার, প্রতিপক্ষের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান, আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাস, এবং সহিংসতা বর্জনের আহ্বান—এই চারটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে তিনি রাজনীতিকে এক নতুন মানবিক মাত্রা দিয়েছেন।
 
সব প্রশ্নের সব উত্তর হয়তো তিনি দেননি, কিন্তু এই সাক্ষাৎকারে তিনি যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে সংলাপ, ন্যায়বিচার ও সহানুভূতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে।
 
এই কারণেই বলা যায়—তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনীতির নয়, মানবতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের এক দৃষ্টান্ত।
 

বিশ্লেষক - 
মানবাধিকার কর্মী 
গবেষক ও পর্যবেক্ষক (সীমান্তহীন গণতন্ত্র)


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ