বাংলায় আমরা যাকে সাহিত্য বলি,আরবিতে তা আল আদাব।তবে আদাব-এর মধ্যে অতিরিক্ত কিছু ভাবও রয়েছে।তা হলো-শিক্ষা,শিল্প,সংস্কৃতি, আচার-আচরন,নৈতিকতা ইত্যাদি।
জাহেলী যুগের আরবি সাহিত্যে আদাব শব্দটির ব্যাবহার দেখা যায় না।তবে রাসূল(সাঃ)- এর হাদিসে এর ব্যবহার পাওয়া যায়।যেমন-তার অনুপম কথামালা,বাচনভঙ্গি,শব্দচয়ন,উন্নতমানের আচার -আচরন,আদব-অভ্যাস,চাল-চলন ইত্যাদি দেখে সাহাবিরা অবাক বিস্ময়ে জানতে চাইলেন,আপনি এসব কোথা থেকে লাভ করেছেন?জবাবে মহা নবী(সা:)বললেন,’আমার রব,আমার প্রভু আমাকে এ আদব শিখিয়েছেন’।ইসলাম পূর্ব আমলের আরবরা ছিল একটি কাব্যরসিক জাতি। তাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কবি ও কবিতার প্রভাব ছিল অপরিসীম।তাদের নিকট কবির স্হান ছিল সবার উপরে। তারা কবিও নবীকে একই কাতারের মানুষ বলে মনে করতো।ফলে তারা আমাদের রাসূলুল্লাহ(স:)কে ও কবি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
ঐ সময় কবিতা ছিল জাহেলি আরব বাসীর ভূষণ।সে যুগে কবিতার চরম উৎকর্স সাধিত হয়।ইসলামী যুগেও এ ধারা অব্যাহত থাকে।তবে জাহেলি যুগের কবিদের মতো নয়।একটু অন্যভাবে।পরিশিলিত ভাষায় আদর্শের মোড়কে। রাসূলুল্লাহ(সা:)নিজে কবি ছিলেন না।তবে তিনি কবিতা শুনতেন,আবৃত্তি করতেন।তিনি কবিদেরকে উৎসাহিত করতেন।মর্যাদা দিতেন।তিনি একটি সুন্দর কবিতার আবৃত্তি শুনে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,‘কোন কোন বাগ্মিতায় জাদু রয়েছে।আর কোন কবিতায় রয়েছে জ্ঞান’।
ইসলাম -পূর্ব যুগে কুরাইশ গোত্রে উল্লেখযোগ্য কোন কবি না থাকলেও সুফিয়ান,আবদুল্লহ ইবনে আয-জামহী প্রমুখ কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘঠে।তারা সকলে ইসলাম বিরোধী ভূমিকায় অবতির্ন হয়। তারা তাদের কবিতার দ্বারা রাসূল(সা:) আনসার ও মুহাজিরদের গোত্র,ব্যক্তি চরিত্র ও ইসলামের নিন্দা ও কুৎসা বর্ণনা করতে থাকে।এটা মদীনাবাসীর জন্য কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।একদিন মহানবী(সা:)মদীনার আনসারদের লক্ষ্য করে বলেন,’যারা হাতিয়ার দ্বারা আল্লাহ ও তার রাসুল(সা:)কে সাহায্য করছে,জিহবা দ্বারা সাহায্য করতে কে তাদেরকে বাধা দিয়েছে?এ কথা শুনে হযরত হাসসান ইবনে ছাবিত বলেন,আমি এর জন্য প্রস্তত।তখন রাসুল(সা:)বল্লেন,’আমিও তো কুরাইশ বংশের, তুমি কিভাবে তাদের নিন্দা করবে’?উত্তরে কবি হাসসান বিন সাবিত বললেন,মথিত আটা থেকে যেভাবে চুল বের করে আনা হয়,আমিও তদ্রুপ আপনাকে বের করে আনবো’।(চলবে)
(তথ্য:কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর'বাংলা সাহিত্যে মুসলমানও ড,মুহাম্মদ আবদুল মা'বুদ-এর সাহিত্য চর্চায় রাসুল(সা:)ও সাহাবিদের ভূমিকা শীর্ষক রচনা থেকে।)