ইরান কতৃক হরমুজ প্রনালী করেছে ইরান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম উর্দ্ধমুখী হওয়ার শঙ্কা

আপলোড সময় : ০১-০৩-২০২৬ , আপডেট সময় : ০১-০৩-২০২৬
দীর্ঘ মহড়ার পর শেষ পর্যন্ত সব আলোচনাকে এক পেশে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যেসব ঘাটি রয়েছে তাতে আঘাত করা শুরু করেছে ইরানও। একই সঙ্গে তেলাবিবেও আঘাত হেনেছে ইরানের মিসাইল। 
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা হরমুজ প্রনালী বন্ধ করে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে ইরান। 
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ রুট বা উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বাড়তে পারে। ইরানের তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করে, যা বিশ্ব বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সরবরাহের মাত্র ১ শতাংশ ব্যাহত হলে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত তেলের দাম বাড়তে পারে।
এর ফলে ক্রুড তেলের দাম ৯.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইরান এখনো বিশ্বের শীর্ষ ১০ তেল উৎপাদনকারী দেশের একটি। ১৯৭৪ সালে তারা দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর তৃতীয় স্থানে ছিল।
দিনে ইরানের উৎপাদন প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা বিশ্বে মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ। এর আগে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছিল, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তামূল্যে এর বড় প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে খাদ্য, পোশাক ও রাসায়নিকের মতো পণ্যে।
মাত্র ৫০ কিলোমিটার প্রস্থ ও তুলনামূলক অগভীর হওয়ায় হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আংশিক বিঘ্ন ঘটলেও ব্যারেলপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলারের ‘ভূ-রাজনৈতিক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হতে পারে। ফলে তেলের দাম আবারও ৯৫ থেকে ১১০ ডলার বা তারও বেশি হওয়ার শঙ্কা আছে।

কয়েক দিন ধরেই তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবার হামলা চালাবে—তা একরকম অনুমেয়ই ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন বৃদ্ধি শুরু হওয়ার পরই তেলের দামে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এরপর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। সারা বিশ্বে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ তেল ও এলএনজি পরিবহন হয়, তার বড় অংশই হয় এই প্রণালি দিয়ে। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এটি পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে ইরানকে ঘিরে যেকোনো সংঘাতে এই প্রণালি কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :