সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সরকারদলীয় লোকদের ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে এবং ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, 'সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করেছে, যা অনভিপ্রেত।' তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বাভাবিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার নির্বাচনের পরিবর্তে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬টি এবং ২৪ মার্চ আরও ৫টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব নিয়োগে দলীয় বিবেচনার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলের সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জনমতের প্রতিফলন নয়।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, 'সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর আঘাত হেনেছে ও জুলাইয়ের স্পিরিটকে ব্যাহত করেছে। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা, কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো সেই চেতনার পরিপন্থী।'
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলীয় বিবেচনাই প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনে সরকারি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ভিসি নিয়োগ করা হয়েছে। এগুলো জুলাই বিপ্লবের স্লোগান 'কোটা না মেধা'কে ধারণ করে না।'
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করে অতীতের নিয়মকে পদদলিত করেছে।
সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে হবে। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।