ইউরোপের ডিজিটাল সীমান্তে কড়াকড়ি: ২৭ হাজার পর্যটককে ফিরিয়ে দিল ইইউ

আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ , আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬

//ফরিদ আহমেদ রনি//  

ব্রাসেলস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ডিজিটাল সীমান্ত যাচাই ব্যবস্থা বা Entry/Exit System (EES) কার্যকরের পর কঠোর অবস্থানে রয়েছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে নিরাপত্তা ও নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় ২৭,০০০ ভ্রমণকারীকে ইউরোপে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অত্যাধুনিক এই প্রক্রিয়ায় ৭০০ জন ব্যক্তিকে নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ইইউ সীমান্ত সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সীমান্তে প্রবেশে বাধা পাওয়া এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডিজিটাল ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও ছবি) যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট বা পরিচয় লুকিয়ে প্রবেশের চেষ্টা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, অতীতে ইউরোপে অবৈধভাবে অবস্থান করার ইতিহাস বা ‘ওভারস্টে’ করার রেকর্ড থাকায় অনেককে সরাসরি সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ডিজিটাল স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ৭০০ জন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা। এদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্য এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। ইইউ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সনাতন পাসপোর্ট স্ট্যাম্পিং পদ্ধতিতে এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু নতুন EES সিস্টেমে চোখের পলকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত তিনটি উদ্দেশ্যে এই কঠোর ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে: ১/ সন্দেহভাজনদের প্রবেশ মুহূর্তেই আটকে দেওয়া। ২/ যারা বৈধ ভিসায় ঢুকে পরে অবৈধভাবে থেকে যান, তাদের শনাক্ত করা। ৩/ কাগজের পাসপোর্টের বদলে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কড়াকড়ির ফলে বৈধ পর্যটকদের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন নথিপত্রের শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়িক বা পর্যটন ভিসায় যাচ্ছেন, তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ফিরতি টিকিট সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকায় যেকোনো অসঙ্গতি বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
এই ব্যবস্থার সফলতায় উৎসাহিত হয়ে ইইউ আগামীতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক: বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও সাংবাদিক । 

সুত্র এএফপি

সম্পাদকীয় :

Editor and Publisher-    Muhammad Nurul Islam

Executive Editor-  Kazi Habibur Rahman.  Managing Editor -  Eng. Mohammed Nazim Uddin
Head Office: Paris, State: Île-de-France
Dhaka office : House No-421 (1st Floor), Road No- 30, New DOHS, Mohakhali, Dhaka. Bangladesh.

Email: editor.eurobarta@gmail.com.

www.eurobarta.com সকল অধিকার সংরক্ষিত 

অফিস :