আইসিসি’র উপর ভারতের খবরদারীর কথা সবাই কম বেশী জানেন! কিন্তু মুখ খোলেন না কেউই। কারন ভারত তার বিশাল মার্কেটিং থেকে অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশী ইনকাম করে। ভারতকে হোষ্ট করার অর্থ বিশাল ইনকামের সম্ভাবনা। এছাড়াও আইসিসি’র আয়েও বড় অবদান ভারতের। তাই আইসিসি’তে থাকা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সহ বহু কর্মকর্তা থাকলেও মুখ খোলেন না। প্রয়োজনে সুযোগটা দিয়ে চলেন তারা। পাছে যদি অভিমান করে ভারত। ইদানিং এ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। ক্রিস ব্রডের পর এবার মুখ খুলেছেন গ্রেগ চ্যাপেল।
চ্যাপেলের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট দলের যে বনিবনা হতো না, সেই ঘটনা কারও অজানা নয়। নিয়মনীতির ব্যাপারেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। ২০০৫ সালে চ্যাপেল ভারতের কোচ হওয়ার পর অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যাঁর ফলে তিনি শ্রীলঙ্কা সফরে তখন যেতে পারেননি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তৎকালীন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া তখন চ্যাপেলকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে গাঙ্গুলীর লঙ্কা সফরের সুযোগ মেলে। কিন্তু চ্যাপেল কোনোভাবেই তখন রাজি হননি। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে এক আলাপচারিতায় আলোচিত এই কোচ বলেন, ‘‘ডালমিয়া ভারতের হয়ে আমার কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার (গাঙ্গুলী) নিষেধাজ্ঞা কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।
তাহলে সে (গাঙ্গুলী) শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারত। আমি তখন বলেছিলা, ‘না। আমি সিস্টেমের বাইরে যেতে পারব না। তাকে (গাঙ্গুলী) এর ফল ভোগ করতে হবে।’ ডালমিয়া তখন সেটা মেনে নিয়েছিলেন।’
২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ভারতের কোচের দায়িত্বে ছিলেন চ্যাপেল। সেই সময়ে গাঙ্গুলী, জহির খান, হরভজন সিং, বীরেন্দ্র শেবাগের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা কড়া সমালোচনা করেছিলেন চ্যাপেলের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ভারত বিদায় নেওয়ার পর চ্যাপেলের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্ক আরও খারাপ হতে থাকে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে গাঙ্গুলীর সঙ্গেই সবচেয়ে তিক্ত সম্পর্ক ছিল চ্যাপেলের।